

বই
বই পড়া মানসিক প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে। বই পড়লে মস্তিষ্ক চিন্তা করার খোরাক পায়, সৃজনশীলতা বাড়ে এবং তথ্য ধরে রাখার ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। বই পড়লে মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক মনস্ক হয়ে ওঠে। মানব জীবনে বইয়ের গুরুত্বের কথা স্মরণ করে টলস্টয় বলেছেন, ‘জীবনে মাত্র তিনটি জিনিসের প্রয়োজন বই, বই এবং বই। নিয়মিত বই পড়ার অনেক উপকারিতা আছে। তাই এটি নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই।

ই-পাঠাগার
যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাইব্রেরি হয়েছে সমৃদ্ধ এবং দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। বর্তমানে পাঠাগারে দুই মাধ্যমে বই থাকে-সফ্ট কপি, যা পিডিএফ আকারে পড়া যায় এবং হার্ড কপি, যা ছাপানো বই। ই-লাইব্রেরি হলো অনলাইনে বই পড়ার মাধ্যম। অনলাইন পেজগুলোতে ফ্রি অথবা টাকার বিনিময়ে বই পড়া যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে খুব সহজেই দেশি-বিদেশি লেখকের বই পড়া যায়, যা সহজলব্ধ হওয়ায় খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কমিউনিটি
পাঠক এবং লেখকদের একটি উৎসাহী বইপ্রেমীদের সাথে যোগ দিন, আপনার গল্প, কবিতা এবং অন্তর্দৃষ্টি সহ বই প্রেমীদের সাথে ভাগ করুন। জীবনানন্দ দাশ লিখেছিলেন, ‘সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি।’ কথাটি এ যুগে এভাবেও বলা যেতে পারে, সকলেই পাঠক নয়, কেউ কেউ পাঠক। সাহিত্যের মান উন্নয়নে লেখক ও সমালোচকের ভূমিকা বহুচর্চিত ও সর্বজনবিদিত। পাঠকের রুচি নির্মাণে সাহিত্যের ভূমিকাও অজানা নয়।

বিতর্ক
বিতর্ক বিষয়টি অনেকেই হয়তো নিছক ঝগড়া মনে করেন। তবে এটি একটি শিল্প। বিতর্ক হলো কথার যৌক্তিক যুদ্ধ, যে কোনো বিষয়ের চুলচেরা বিশ্লেষণ, বিতর্কে থাকে যুক্তি ও তত্ত্ব-উপাত্ত এবং তথ্যের সমারোহ। যুক্তি তর্কের নান্দনিক উপস্থাপনার কারণে বিতর্ক বোদ্ধারা অনেকেই বিতর্ককে ‘বিতর্ক শাস্ত্র’ বলে আখ্যায়িত করেন।
বিতর্কে থাকে প্রজ্ঞাপূর্ণ বচন ও অপর মতের প্রতি শ্রদ্ধার উদাহরণ (Sehemata)।
বিতার্কিক: যিনি প্রতিপক্ষকে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা করে যৌক্তিক গঠনমূলক (Constructive) ও প্রজ্ঞাপূর্ণ (Sagacious) বিতর্ক করেন।
বিতর্ক: ইংরেজি প্রতিশব্দ Debate, যার আভিধানিক অর্থ তর্কাতর্কি, বাদানুবাদ, বিতর্ক, বাদপ্রতিবাদ, বাগবিতন্ডা ইত্যাদি। বিতর্ক শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে আমরা পাই- ‘বি’ যার অর্থ বিশেষ এবং ‘তর্ক’ যার অর্থ বাদানুবাদ। অর্থাৎ বিশেষ বাদানুবাদ বা আলোচনাকে বিতর্ক বলে।
বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে (দশম মূদ্রণ-২০১০) বিতর্ক অর্থ তর্ক, আলোচনা, বাদানুবাদ, বিচার উল্লেখ করা হয়েছে।

গল্পীয়ান গল্প – কবিতা লেখা
গল্প লিখতে পারে এমন লোক দুনিয়ায় খুবই বিরল। লাখে একজন হবে। হয়তো আরও কম। অনেকেই জমিয়ে গল্প বলতে পারে। আসর মাতিয়ে তোলে তারা কথার ফুলঝুরি ছুটিয়ে। কিন্তু জমিয়ে গল্প বলা এক জিনিস, আর গল্প লেখা আরেক। গল্প লেখা মানে গল্প তৈরি করা। কাহিনি বানানো। সেটা একেবারে ভিন্ন ধরনের কাজ।
কিন্তু কেন সবাই গল্প লিখতে পারে না?
এর উত্তর খুবই সহজ। গল্প লেখার কিছু নিজস্ব কলাকৌশল আছে। আর সবাই সেটা রপ্ত করতে পারে না। কিন্তু কী সেই কলাকৌশল, তা ব্যাখ্যা করা কঠিন। তা ছাড়া দুনিয়ার সব লেখক এ বিষয়ে একমত হয়ে গেছেন যে গল্প লেখার কলাকৌশল কেউ কাউকে শিখিয়ে দিতে পারে না।এগুলো নিজে নিজে রপ্ত করে নিতে হয়। তবু কিছু সাধারণ নিয়ম নিশ্চয়ই আছে, যার গুণে একজনের লেখা আরেকজনের চেয়ে ভালো হয়ে ওঠে। ভালো লেখক হওয়ার কলাকৌশল মানলেই যে আপনি পুরস্কার জয়ী সাহিত্যিক বনে যাবেন তা নয়।

পাঠক সমাবেশ
পাঠক সমাবেশ পাঠকদের নিজেদের মতো করে একটি দাড়াবার জায়গা। বিকেল হলেই পাঠকাতর পড়ুয়ারা ছুটে আসেন পাঠাগারটিতে। কেউ খুঁজে পছন্দের বইটি পড়েন। কেউ বাসাবাড়িতে নিয়ে যান। কেউ পড়েন পত্রপত্রিকা। কেউ গবেষণা, অনুসন্ধানের তথ্য খোঁজেন বইয়ের পাতায়।বইয়ের সঙ্গে পাঠকের আত্মিক সম্পর্ক তৈরি করতে এক সময় তরুণ, শিশু-কিশোরদের অবসর সময় কাটত বিভিন্ন পাঠাগারে। তবে প্রযুক্তির যুগে সেই সব পাঠাগারে এখন আর পাঠকের দেখা মিলে না। মাঠেও ফুটবল বা ক্রিকেট নিয়ে কসরতে দেখা যায় না তাদের। অবসর সময়ে বই বা খেলাধুলার পরিবর্তে তরুণ, শিশু-কিশোরদের হাতেহাতে এখন মোবাইল। যে মোবাইল ও ইন্টারনেট ছিল প্রযুক্তির আশীর্বাদ সে মোবাইল ও ইন্টারনেটই যেন প্রকৃতির অভিশাপ। দীর্ঘদিন বই থেকে দূরে থাকা বইপ্রেমী পাঠকদের নিয়ে আমাদের পাঠাগার প্রতি শনিবার বিকেলে এক সমাবেশের আয়োজন করে। পাঠাভ্যাস সৃষ্টি, সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ, জ্ঞানার্জন ও শিল্প-সংস্কৃতিকেন্দ্রিক বিনোদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


